KM Farhan https://www.kmfarhan.com/2021/04/blog-post_6.html

কমবয়সে বিয়ের ফজিলত এবং উপকারিতা।

আসসালামুআলাইকুম রাহমাতুল্লাহে ওবারাকাতুহ, আপনার সাথে অধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা করতে চাই এবং হ্যাঁ আমি এই সাইটে প্রতিনিয়ত অধিক গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়ে পোস্ট করে থাকি। যা আপনি পড়ার মাধ্যমে আপনার কাটানো প্রতিটি দিন আর উন্নত হবে।

বিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় কথা বলা হবে আপনার মনোযোগ আশা করছি।

বিয়ের সঠিক বয়স কত বা কত বয়স হলে বিয়ে করে নেয়া উচিত তা নিয়ে অনেক মতবিরোধ রয়েছে। যেমন :

আসলে বিয়ের সঠিক বয়স কত? এই বিষয়ে ইসলাম কোন বয়স নির্ধারণ করে দেয়নি। তবে... 

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, হে যুবকরা  তোমাদের মধ্যে যার বিবাহের সামার্থ রাখে সে যেন দ্রুত বিয়ে করে নেয়, কেননা বিয়ে চোখকে নত করে এবং লজ্জার স্থানকে হেফাযত করে। -- বোখারী, মুসলিম)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেন, যে আল্লাহর বান্দা বিবাহ বন্ধনে আবধ্য হলো ,নিশ্চই সে তার দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ  করলো এবং বাকি অর্ধেক হলো আল্লাহকে ভয় করা। -- মেশকাত শরীফ।

দ্রুত বিয়ে করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আসলেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বয়স একটু কম থাকতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়া উচিত, 

কম বয়সে বিয়ে না করলে আপনাকে যে যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে:

১. মনে করেন আপনি চাচ্ছেন ৩০ বয়স পার করে বিয়ে করবেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার বয়সের কারণে আপনার মধ্যে যে বয়স্ক বা এক্টু ভারত্ত চলে আসবে। যৌবনের বলতে গেলে একটা স্রোত ধারা রয়েছে। বয়স ১৫-১৮ এর মধ্যে নিজের মধ্যে একটা চিন্তা সুরু হয় যে, আমার যদি একটা বান্ধবি থাকতো!!! 

মানুষ হালাল খাবার না পেলে, হারাম খাবার গ্রহণ করে।

বিয়ে না করলেও, যুবক বয়সে যৌবনেরতো একটা প্রভাব রয়েছে। এতে আপনি চাইবেন রিলেশন এ যেতে। আপনার আবেগময়ি সময়টা আপনার গার্লফ্রেন্ডকে দিবেন, গার্লফ্রেন্ড বানানো এই সম্পর্ক যেহেতু হারাম। আর হারাম জিনিস এ বরকত থাকে না। তাই আপনার ঐ রিলেশন টিকবেও না। 

তাই আপনি নতুন করে আবার ভালবাসা পেতে চাইবেন। এক এর পর এক এভাবে অনেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক হবে, মেলা মেসা হবে। 

যখন আপনি ধোঁকা খাবেন কয়েক বার। এরপর থেকে মেয়েদেরকে আপনার ধোঁকার বস্তু মনে হবে। তখন আপনি একা একা থাকতে চাইবেন, পরিবার-বন্ধু কিছুই ভালো লাগবে না। একা থাকায় নানা দুশ্চিন্তা আঁকড়ে ধরবে আপনাকে নানাভাবে আপনার সময় অপচয় হবে এবং আপনি আপনার জীবনে এভাবে অসফলতা নিয়ে আনছেন।

কয়েক বছর পর যখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন বিয়ের কয় বছরপর, আপনার বয়সে ভারত্ত চলে আসায় সম্পর্ক খুব বেশি মধুর ও ঘনিষ্ঠ থাকবে না।

ব্যাপারটি তখন এমন হবে যে বিয়ে করার দরকার ছিল তাই বিয়ে করেছি। এরকম চিন্তা ভাবনা আসবে কারণ আপনি বিয়ের আগেই অনেক জনের সাথে সম্পর্ক করে ফেলেছেন।

এ জন্য করণীয় যত দ্রুত সম্ভব বিয়ে করে ফেলা।

আবেগ থেকেই ভালোবাসার উৎপত্তি বা জন্ম হয়। তাই উচিত আবেগ থাকতেই তা কাজে লাগিয়ে বিয়ে করে ফেলা।

২) বেশি বয়সে বিয়ে করলে স্বামী-স্ত্রী নিজেদেরকে বেশি সময় দিতে পারেন না। তারা একা একি সময় কাটাবার সুযোগ পান না। বছর পার না হতেই সন্তান নেয়ার চিন্তা করতে হয়।আর সন্তান হয়ে গেলে দুজনের একান্তে বা একাকীত্বে সময় কাটানোর সুযোগ আর হয়ে উঠে না। 

কিন্তু অল্প বয়সেই বিয়ে করলে সঙ্গীনির সঙ্গে অনেকটা সময় পাওয়া যায়। এতে সম্পর্ক অনেক মজবুত, ভালো ও মধুর হয়। 

বর্তমান সময়ে অনেক পরিবার ভেঙ্গে যার পারষ্পারিক আন্তরিকতা না থাকায়।কেননা তারা দেরিতে বিয়ে করে এবং বিয়ের সম্পর্কের মধ্যে তাদের বয়সের পার্থক্য বেশি থাকে। 

রাসুল (স.) এর মেয়েকে অনেক সাহাবী বিয়ের প্রস্তাব দিলেও তিনি তার মেয়ের সমবয়সী একজনের সাথে বিয়ে দেন।

৩) দুজন ভালো একজনের তুলনায় -নিশ্চয়ই বিষয়টি না বোঝার বিষয় না। একা সুখ ভোগ করার চেয়ে দুজন থাকলে সুখ এবং আনন্দের পরিমাণ আরও বাড়ে। দ্রুত বিয়ে না করলে যা পাওয়া যায় না। 

দ্রুত বিয়ে না করলে একা সব দুঃখ ভোগ করতে হয়। একা দুঃখ ভোগ করার চাইতে দুজন যদি তা ভাগাভাগি করে নেয় অনেকটা সমস্যা এর সমাধান হয়ে যায়। 

অল্প বয়সে বিয়ে করলে দুজনের জীবনের সবকিছুই ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় বলে আন্তরিকতা এবং ভালবাসা বেশি থাকে সেই দ্মপ্তির মধ্যে। যা দেরিতে বিয়ের মধ্যে তা পাওয়া যায় না।

আন্তরিকতা এবং ভালবাসা বেশি না থাকলে দুজনেরই মানসিক চাপটা এক্তু বেশি থাকে। দুজনের মধ্যে সন্দেহ জিনিসটা অনেক বেশি কাজ করে। যা বর্তমান যুগে সংসারে অশান্তির মূল কারণ।

৪) সন্তানের কাছে খুব ভালো মাতা-পিতা হবার সুযোগ পাবেন না যদি দ্রুত বিয়ে না করেন। এখানে একটা বিষয় কাজ করে যে, আপনি যদি কম বয়সে বিয়ে করেন আপনার ভিতর আবেগ জিনিষটা অনেক বেশি কাজ করবে সন্তানের প্রতি।

অফিস থেকে এসেও সন্তানের পিছনে পরিশ্রম করতে বিরক্ত বোধ হবে না। কিন্তু যদি দেরিতে বিয়ে করেন সন্তানের একটু দুস্টামি আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে যাবে। 

৫) একটা বিষয় যা কেউ বুঝার চেষ্টা করে না। মানুষের গড় আয়ু কিন্তু দিনের পর দিন কমে আসছে। 

আপনি দ্রুত বিয়ে না করলে সন্তান লালন পালন এবং মানুষ করার বিষয়টিও পিছিয়ে যাবে। এবং আপনার সন্তান লালন পালনের বিষয়টা আপনার কাছে একঘেয়েমি এবং বিরক্ত কর মনে হবে।

৬) অনেক যুবক বিয়ের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তাই বর্তমানে ডিভোর্সের সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।কেননা তারা দেরিতে বিয়ে করছে এবং তারা বিয়ের আগেই অনেক প্রেম এ জড়িয়েছে।

তাই বিয়ের পর তার সঙ্গিনীকে আর অতোটা ভালো লাগে না।একজন বক্তির জীবনে তার স্বামী বা স্ত্রী যদি হয় তার জীবনের প্রথম নারী বা পুরুষ তবে দুজনের মধ্যে একজন যদি খারাপ হয় তাহলে যেকোনোভাবে সংসারটা টিকে যাবে।

যুবক-যুবতীরা বিয়ের আগে প্রেমে জড়ালে বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রীকে অতটা তারা সম্মান বা ভক্তি করতে পারেনা।

তাদের মধ্যে যদি মনের মিল খুঁজে না পায় তারা ডিভোর্সকে বেছে নেয় এবং তাদের কাছে ডিভোর্স কে গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ডের ব্রেকআপের মতো মনে হয় কথাগুলো শুনতে খারাপ লাগলেও বর্তমান যুগে তাই হচ্ছে।

কম বয়সে বিয়ে আপনার জীবনটাকে অনেকটা সহজ করে দেবে আপনার কাছে। 

অনেক ধরনের ছোট খাটো সমস্যা থেকে বেচে থাকতে পারবেন।যেমন :

দুজন ভালো একজনের তুলনায় -নিশ্চয়ই বিষয়টি না বোঝার বিষয় না। একা সুখ ভোগ করার চেয়ে দুজন থাকলে  সুখ আনন্দের পরিমাণ আরও বাড়ে।একা দুঃখ ভোগ করার চাইতে দুজন যদি তা ভাগাভাগি করে নেয় অনেকটা সমস্যা এর সমাধান হয়ে যায়। 

অল্প বয়সে বিয়ে করলে দুজনের জীবনের সবকিছুই ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় বলে আন্তরিকতা এবং ভালবাসা বেশি থাকে সেই দ্মপ্তির মধ্যে। সাথে মানসিক চাপটাও কম ভোগ করতে হয়। 

বিষয়টি পড়ার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আপনাকে। গুরুত্বপূর্ণ এরকম আরো অনেক পোস্ট করা রয়েছে এই সাইটে পোস্ট গুলো দেখার আমন্ত্রণ রইল।

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া