KM Farhan https://www.kmfarhan.com/2021/02/blog-post_51.html

ইস্তেগফার পড়ার ফজিলত | বেশি করে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়লে কি হয়

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু, প্রিয় দ্বীনি ভাই হৃদয়টাকে একটু নাড়া দেন, নিজেকে প্রশ্ন করেন কিসের জন্য দুনিয়াতে পাঠানো হয়েছে আমাদেরকে?

যদি আমলের জন্যই না হয় তবে কিসের জন্য!! দুনিয়ার সফলতার পিছনে না ছুটে, ঠিকমতো দিন পালন করে আল্লাহর কাছে চেয়ে নেওয়াটা কি উত্তম নয়??? 

মহান আল্লাহ তালাই সফলতা এনে দিবেন  আপনার অল্প পরিশ্রমের মাধ্যমে তবে এটা কেমন হবে বলেন?? যদি আপনি দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং কিছু দোয়া পড়েন, দ্বীন পালনে অটুল থাকেন, আপনার কাজে বরকত দিয়ে দিবেন মহান আল্লাহতালা।

এখন আমরা আলোচনা করব!! 

ইস্তেগফার পড়ার ফজিলত  |  বেশি করে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়লে কি হয়?? 

ইস্তেগফার অর্থ হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। আদম সন্তান প্রত্যেককেই পাপী এর মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ যে ইস্তেগফার বেশি বেশি পাঠ করে আর তাকেই আল্লাহ বেশি পছন্দ করেন।

  1. রিজিক বৃদ্ধি , ইস্তেগফার পড়ার ফজিলত।
  2. মুস্তাজাবুদ দাওয়া হয়ে যাবেন দোয়া করলে কবুল, ইস্তেগফার পড়ার ফজিলত।
  3. টেনশন থেকে মুক্তি, ইস্তেগফার পড়ার ফজিলত।
  4. যেকোনো বিপদ থেকে রক্ষা, ইস্তেগফার পড়ার ফজিলত। 
  5. আল্লাহর আজাব থেকে বেঁচে যাওয়া,  ইস্তেগফার পড়ার ফজিলত। 

এগুলো আপনি সবই পাবেন যদি আপনি সর্বদা ইস্তেগফার এর সাথে আঠার মতো লেগে থাকেন। যেমন: ধরেন অফিসে যাচ্ছেন রাস্তায় ইস্তেগফার পড়তে পড়তে যান। আবার রান্না করছেন ইস্তেগফারের পড়ছেন, বলছেন আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ আস্তাগফিরুল্লাহ। ঠিক এরকম ভাবে সব সময় ইস্তেগফার এর সাথে আঠার মতো লেগে থাকলে।

আপনার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট:-

যে দোয়ার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার বিষয় থাকে সেটাই ইস্তেগফার। আপনি যেই ইস্তেগফার পারেন সেটাই আমল করতে পারেন। 

তবে এর মধ্যে সাইদুল ইস্তেগফার সর্বশ্রেষ্ঠ জানতে ক্লিক করুন।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল এর ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা বলছি একটু মনোযোগী হন। তিনি ছিলেন জগৎ বিখ্যাত মুহাদ্দিস তার সারা জীবনটা ব্যয় করেছেন হাদিস সংগ্রহ। 

শীতের এক রাতে তিনি সফরে বেরিয়েছেন, মাগরিব এবং এশার নামাজ আদায় শেষে তিনি ভাবলেন ফজরের নামাজটা পড়ে একবারে মসজিদ থেকে বের হবেন রাতটা মসজিদে কাটিয়ে দিবেন।

কিন্তু সেই মুহূর্তে মসজিদের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি এসে তাকে বললেন মসজিদে থাকা যাবেনা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল, অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও লোকটি মানলো না তাকে থাকতে দিল না মসজিদে। মসজিদের দায়িত্বে থাকা লোকটি তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে মসজিদ থেকে বের করে দিল।

তিনি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন দেখলেন এক যুবকের রুটির দোকান সে সেখানে যেয়ে যুবককে বলল, হে যুবক আমি এক জায়গায় যাচ্ছিলাম। রাতটা যদি তোমার রুটির চুলার পাশে বসে কাটিয়ে দিই তোমাকে কোন সমস্যা হবে। মাঝেমধ্যে যদি আগুন তাপাই, যুবক বলল, না কোন সমস্যা নেই।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল খেয়াল করলেন, যুবকটি রুটি বানাচ্ছে বলছেন আস্তাগফিরুল্লাহ। রুটি তাওয়াতে সেকছেন বলছেন আস্তাগফিরুল্লাহ মানে সব কাজেই আস্তাগফিরুল্লাহ বলছেন।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল কৌতুহল হয়ে যুবককে বললেন তুমি এত আস্তাগফিরুল্লা বলছো কেন?? যুবক উত্তরে বললেন, আমি আস্তাগফিরুল্লাহ বেশি পাঠ করায় মহান আল্লাহতালা আমাকে মুস্তাজাবুদ দাওয়া বানিয়ে দিয়েছেন। আমি দোয়া করলেই সেটা  সঙ্গে সঙ্গে কবুল হয়ে যায়। 

যুবকটি আরো বলল কিন্তু আমার একটা দুয়া এখন পর্যন্ত কবুল হয়নি, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল কৌতুহল হয়ে বললো কি সেটা??

যুবক বলল এই যুগের বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল এর সাথে দেখা করার আমার অনেক ইচ্ছা। কিন্তু আল্লাহ আমার দোয়া টা এখনো কবুল করে নি। যুবকটি জানতো না যে তার পাশে থাকা লোকটিই ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল তো অনেক ইমোশনাল হয়ে গেলেন সে কান্না জুড়ে দিয়ে বললেন, হে যুবক ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল এর সাথে দেখা করার জন্য তার দুয়ারে তোমাকে যেতে হবে না, এই যুগের বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল তোমার দুয়ারে এসে গেছে।

যুবক তার কথা শুনে কান্না জুড়ে দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল।

দ্বীনি ভাই বুঝার চেষ্টা করেন তাহলে ইস্তেগফার (আস্তাগফিরুল্লাহ) কত পাওয়ারফুল একটা আমল। 

নিয়মিত ইস্তেগফার পড়া ব্যক্তি পাবে : 

যেসব সমস্যায় আমরা প্রতিদিন সম্মুখীন হই, একটা শব্দে আল্লাহতালা আমাদেরকে সে সব সমস্যার সমাধান রেখে দিয়েছে। 
১. ইস্তেগফার করা নবীদের সুন্নত।
২. ইস্তেগফার করা আল্লাহর কাছে প্রিয় একটা আমল।
৩. ইস্তেগফার দারা আল্লাহর নৈকট্য হাসিল হয়।
৪. ইস্তেগফার দারা গোনাহ সমূহ মাফ হয়।
৫. ইস্তেগফার দারা ব্যবসায় লাভ হয়।
৬. ইস্তেগফার দারা মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
৭. ইস্তেকফার দারা আল্লাহর রহমত নাযিল হয়।
৮. ইস্তেগফার পাঠ করলে আল্লাহর দয়া এবং করুনা করবেনই বলেছেন, সুরা নিসা ১১০।
৯. ইস্তেগফার পাঠ করে দোয়া করলে সন্তান যাদের হয় না তাদের সন্তান হয়।
১০. ইস্তেগফার পাঠ করে দোয়া করলে খরা এবং অনাবৃষ্টি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
১১. ইস্তেগফার পাঠ করে দোয়া করলে, জমিনের ফসল ভালো হয় বা যে কোন ব্যবসায় লাভবান হওয়া যায়।
১২. ইস্তেগফার পাঠে অন্তরের ময়লা পরিষ্কার হয়। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল (স.) এরশাদ করেছেন মুমিন ব্যক্তি যখন কোন খারাপ কাজ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে।
১৩. ইস্তেগফার পাঠিয়ে সংকীর্ণতা দূর হয়।
১৪. ইস্তেগফার পাঠে দুশ্চিন্তা দূর হয়।
ইস্তেগফার পাঠে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
১৫. ইস্তেগফার পাঠে আল্লাহতালা রিজিক অনেক বাড়িয়ে দেন বিভিন্ন জায়গা থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেন।
১৬. ইস্তেগফার দারা সকল গুনাহ সমূহ মাফ হয়ে যায়।
১৭. ইস্তেগফার পাঠে আল্লাহর আযাব থেকে বাচা যায়। 

বিষয়টি পড়ার জন্য ধন্যবাদ, প্রিয় মানুষদের কাছে লিংকটি শেয়ার করেন যাতে তারাও বিষয়টা জানতে পারে। 

মন মুগ্ধকর  কন্ঠে অ্যারাবিক নাত হাল্লাকা সিররুল শুনতে ক্লিক করুন

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

2 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

  1. আলহামদুলিল্লাহ খুবই উপকৃত হলাম

    ReplyDelete

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া