KM Farhan https://www.kmfarhan.com/2021/02/blog-post.html

ব্রেন ভালো রাখার উপায় | যে কারণে ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কিছু বদঅভ্যাস রয়েছে যা আমাদের ব্রেইন পাওয়ার বা মেধাশক্তি  কমিয়ে দিচ্ছে। এমন ভয়ঙ্কর বিষয়ে আমরা জানিই না, এমন কিছু বিষয় নিয়ে নিচে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো।


মেধা শক্তি  শক্তি কমে যাওয়ার কারণ :

আপনার দৈনন্দিন জীবনে এরকম অনেক কাজ আপনি করেই যাচ্ছেন যা আপনার মস্তিষ্কের উপর অনেক খারাপ প্রভাব ফেলছে। যার কারনে আপনার,

  • চিন্তাভাবনা প্রক্রিয়া
  • মস্তিষ্কের শক্তি
  • শেখার ক্ষমতা এবং
  • মেমোরি ফাংশন কে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার 10 টি কারণ:

আমরা দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক কাজ করে থাকি, যা আমাদের মস্তিষ্কের অনেক ভয়ঙ্কর ক্ষতিগ্রস্ত করে। কি কি কারণে আমাদের ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তা নিচে বর্ণনা করা হলো।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কথায় আছে চিন্তা করা ভালো , দুশ্চিন্তা করা ভালো না। যেকোনো রকম দুশ্চিন্তা, আমাদের ব্রেনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে , তবে সব ধরনের  স্ট্রেস  খারাপ নয়। যেমন একিউট স্ট্রেস, 
কোন কাজ করা কালীন কিছুটা স্ট্রেস  ভালো এতে আমাদের কাজ করার ইচ্ছাশক্তিকে বুস্ট করতে সাহায্য করে। এই জিনিসটা আমাদের নতুন কোন কিছু ভাবার বা নতুন কোনো কিছু তৈরি করার চেষ্টা বা চিন্তা করতে শিখায়।

তবে বলা যায় একিউট স্ট্রেস , এটা ব্রেনের জন্য একটা ভালো দিক কেননা এটা ব্রেনের মার্শালকে স্ট্রং করে।

চিন্তা করার ক্ষমতাকে জন্ম দেয় একিউট স্ট্রেস 
,  যেমন লাইফ ঠিকভাবে চলছে নাকি চলছেনা, লাইফে কোন কোন বিষয়গুলিকে ইমপ্রুভ করা উচিত এই কাজ কি করলে কি ঠিক হবে কি হবে না।
তাই বলা যায় এটা ব্রেন ভালো রাখার একটা উপায়। আবার,

করণিক স্ট্রেস  ভালো না, এটা ব্রেনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যেমন এটা হরমোনকে প্রডিউস করে, যার নাম,

আর করটিসল এর কারনে, ওভার ওয়েট, ডাইজেস্টিভ ইশুজ , হরমোনাল ইমব্যালেন্স, ক্যান্সার , হার্টের প্রবলেম এর মত জটিল প্রবলেমগুলো তৈরি হয়। 

তারমানে বলা যায়, ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে শরীরের সিস্টেম লস হওয়া।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা  এর কারণে মেন্টাল প্রবলেম, মেমরি লস এবং অভার্থিনকিং এর মত প্রবলেম ও তৈরি হয়।
যে কারণে ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় অনেক পরিমাণে। ব্রেন ভালো রাখার উপায়, নামাজ পড়া এতে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং সাথে মেধাশক্তি বিকাশিত হয়। 

ইয়ারফোনে গান শোনা ব্রেন প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যদি আপনি, উচ্চস্বরে কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনেন, এতে আপনার ব্রেইন এ মারাত্মমক একটা ইফেক্ট পড়ে।

যা ব্রেনের জন্য অনেক বড় একটা ক্ষতিকর দিক। যে কারণে ব্রেন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ব্রেন ভালো রাখার উপায় যদি হেডফোনে গান শোনেন কম ভলিউম দিয়ে শুনবেন, একটু বিনোদনের জন্য যেন আপনার শরীর খারাপ না হয়ে যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। 

এমন করে চলতে থাকলে একটা সময় আপনার ব্রেইন ড্যামেজ , সাথে শ্রবণশক্তি  কমতে থাকে। এর কারণে মাথা ব্যাথা সহ চোখের ব্যথা হয়ে থাকে। 
যে কারণে ব্রেন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বা ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় গুলোর মধ্যে একটি। 

রিসেন্ট স্টাডিতে   ডাক্তাররা জানিয়েছেন কেউ যদি ৩০ মিনিটের বেশি লাউডস্পিকারে গান শুনে তার হেয়ারিং পাওয়ার কমে যাবে। তার মানে বুঝেন আপনার ব্রেইন কি পরিমানে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তাই ব্রেন ভালো রাখার উপায় যদি আপনি হেডফোনে গান শুনে থাকেন এটা অভ্যাসে যাতে পরিনত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। কেননা এটা আপনার ব্রেনের জন্য একটা ক্ষতি দিক, যার কারনে আপনার ব্রেন চরম পরিমাণের ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

আপনি যখন ৩০ মিনিটের বেশি লাউডস্পিকারে গান শুনতে থাকেন তাহলে  আপনার ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আপনার ব্রেইন মনে করবে যে সাউন্ডটি হয়তো স্বাভাবিক এরপর আপনার স্বাভাবিক শব্দগুলো শুনতে পারবেন না বা অসুবিধা হবে শব্দ শুনতে । তার মানে বোঝেন এটা আপনার ব্রেনের জন্য কতটা ক্ষতিকর।

কেননা আপনার কানের ইয়ার ড্রাম এ আঘাত পরছে। এ জন্য চেষ্টা করবেন হেডফোন বা এয়ারফোন ইউজ না করার, তার মানে আপনি বুঝতে পারছেন আপনার ব্রেন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদি হেডফোন ব্যবহার করেন তাহলে ৫০% এর বেশি সাউন্ড দিবেন না। এবং 20 মিনিটের বেশি গান শুনবেন না।

অন্ধকারে বেশিক্ষণ থাকা  : সানলাইট গাছের হেলথ এর জন্য সানলাইট এর ভূমিকা যেমন। ঠিক তেমনি আমাদের শরীর সুস্থ বা হেলথ গ্রোথ জন্য সূর্যের আলো অতি প্রয়োজনীয়। আমাদের ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। 

সূর্যের আলো থেকে আমরা ভিটামিন ডি পাই এটা আমরা সবাই জানি । 

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস সূর্যের আলো আমাদের ব্রেনের জেনারেল  কগনিটিভ ফাংশন,আমাদের ব্রেনে পজিটিভ ভাবে ইফেক্ট করে। 
বা ব্রেনের বিকাশেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

সানলাইট আমাদের ব্রেনের সেরোটোনিন নামের কেমিকেলের প্রোডাকশন কে বাড়িয়ে তোলে। ব্রেনের সেরোটোনিন, আমাদের মুড কে স্টেবল রাখার সাথে সাথে আমাদের থিংকিং পাওয়ার কেউ বাড়িয়ে তোলে। 

যদিও অন্ধকার জায়গায় বেশিখন থাকি। সূর্যের আলো যদি গায়ে পড়তে না দেই, তাহলে জেনে রাখুন এই অভ্যাসটি আমাদের শরীরের সেরকাদিয়ান রিদম কে নষ্ট করে দেয়। 
এরফলে স্যাড নেস , ডিপ্রেশন, অলসতা এবং একাকীত্ব ভাব আমাদের মধ্যে বাড়তে শুরু করে। তাই প্রতিদিন অন্তত পক্ষে 10 মিনিট সূর্যের আলো গায়ে পরতে দিন।

কম ঘুমানো  : অন্যতম ভূমিকা পালন করে। আপনার মেন্টাল হেলথ এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত রাত্রে ঘুম না হওয়া আমাদের কগনিটিভ ফাংশন কে দুর্বল করে দেয় এবং আমাদের ব্রেন সেল গুলিকে ড্যামেজ করে দেয়। কম পরিমাণ ঘুমের ফলে ব্যক্তির মধ্যে একটা ক্লান্তি ভাব, অলসতা এবং ডিপ্রেশন এর মত লক্ষণ গুলো কে দেখতে পাওয়া যায়। ব্যক্তির ভাবার ক্ষমতা ডিসিশন নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং কোন কাজটি প্রডাক্টিভলি করতে পারেনা তাই ব্রেন এবং বডিকে ফিট রাখার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অবশ্যই প্রয়োজন।

অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া: 
যেমনটি আপনি জানেন যে কোনো জিনিসই বেশিমাত্রায় ভালো নয়, খাওয়ার  উপর প্রযোজ্য হয় এটা মনে হচ্ছে বড় ব্যাপার নয়়। এটি মনে হচ্ছে যে খুব বড় ব্যাপার নয়় এটি। আপনার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কে বাড়িয়ে দেয়। কোলেস্টেরল জমা হয়ে আপনার ব্লাড ভেসেল ব্লাড ভেসেল কে সরু বানিয়ে দেয়। এটি সারা শরীরের সাথে সাথে ব্রেনের রক্ত প্রবাহের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। যার ফলস্বরূপ ব্রেনের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। অপারেটিং আমাদের সেলফ কনফিডেন্স কেও কমিয়ে দেয়। 

ব্রেনের এক্সেসাইজ না করা
শরীরের মাসলের মত, ব্রেনের এক্সেসাইজ করাতে হয়। যেমন: স্টুডেন্টদের নিয়মিত পড়াশোনা করতে হয় তাছাড়া তাদের ব্রেন ক্যাপাসিটি এবং ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও কমে যায়। মানে ব্রেনের গ্রোথ কমে যায় বা বন্ধ হয়ে যায়। নতুুুুন জিনিস শেখা বন্ধ করে দিলে ক্রিয়েটিভিটি কমে যায় এবং ক্রিটিক্যাাল বিষয়গুলো সমাধান করতে পারে না।

অলস জীবন যাপন: 
মূলত অলস জীবনকে বোঝানো হয় মানে যারা সব সময় শুয়ে বসে থাকেন পরিশ্ররম হবে এরকম কোন কাজ করেন না।  এরকম ভাবে যারা জীবন কাটাতে থাকে তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস, হার্টের প্রবলেম, হাই ব্লাড প্রেসার এর পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। 

আপনি হয়তো জানেন অব্যবহৃত  লোহার মতো শক্তিশালী জিনিস রেখে দিলেও মরিচা ধরে যায়। ঠিক একই রকম আমাদের শরীর যদি মুখ করা বন্ধধ করে দেয় আমাদের ব্লাড প্রেসার কমে যায় যার কারণে আমাদের ব্রেইনে রক্ত চলাচল কমে যায় যার কারণে স্যাড নেস অলসতা বৃদ্ধি্ধি পায় শারীরিক শক্তি কমে যায়, এজন্যআপনার করণীয় অ্যাক্টিভ লাইভ বেছে নেওয়া।

অতিরিক্ত চিনি খাওয়া: আপনি যদি অতিরিক্ত চিনি খেয়ে থাকেন  আপনার শরীরের ধারণ ক্ষমতা কমে যাবে যার ফলে প্রোটিন ও নিউট্রিয়েন্টস গ্রহণ করতে শরীর ব্যর্থ হয়। শরীর যদি প্রোটিন ও নিউট্রিয়েন্টস গ্রহণ করতে না পারে তাহলে আপনি শারীরিক ও বিকাশে ব্যর্থ হবেন । তাই অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া শরীরের জন্য উপযুক্ত নয়।

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া  : আমাদের শরীরে প্রায় 60-70 পানি। আমরা যদি পরিমাণ মতো পানি না পান করি তাহলে আমাদের শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিবে। স্বাভাবিকভাবে আমাদের প্রতিদিন 2 লিটার পানি পান করা উচিত যারা পরিশ্রমের কাজ করে জিম করে তাদের জন্য কিছুটা পরিমাণ বাড়ানো উচিত তাছাড়া পানির ঘাটতি শরীরে দেখা দিবে এর ফলে শরীর ও ব্রেইন দুইটাই দুর্বল হয়ে পড়বে। আপনার যদি অকারণে মাথা হঠাৎ ব্যথা শুরু হয় হতে পারে আপনার মাইগ্রেনের প্রবলেম হচ্ছে, পানি স্বল্পতার কারণে মেজাজ খিটখিটে স্বভাবের হয়ে থাকে। শরীরে পানিশূন্যতা যদি দেখা যায় তাহলে মস্তিষ্কের স্নায়ু ও শুকিয়ে যেতে পারে। 

ধূমপান: আমরা প্রত্যেকেই জানি ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, তা ফুসফুস এবং ব্রেইন অভয় এর ক্ষতি করে। ছেরাব্রেল কর্টেক্স আমাদের ব্রেনের এমন একটি পার্ট যা আমাদের কোন ইম্পর্টেন্ট বিষয় বা ইম্পরট্যান্ট ইনফর্মেশন কে প্রসেস করে। 
বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছেরাব্রেল কর্টেক্স পাওয়ার কমতে থাকে। যদি আপনি ধূমপান করে থাকেন তাহলে বয়স হওয়ার আগেই আপনার স্মৃতিশক্তি কমে যাবে ক্রিয়েটিভ কোনো চিন্তা আপনার মাথায় কম আসবে, যে কোন রকম কাজের মনোযোগ কমে যাবে।
কিন্তু আপনি যদি স্মোকিং ছেড়ে দিন, তবে ধীরে ধীরে তা অবশ্যই ঠিক হবে সময়ের ব্যবধানে। কিন্তু ক্ষতিটা  অতিরিক্ত পরিমাণে হয়ে গেলে, অনেক সমস্যাই ভোগ করতে হবে। 

আপনার শরীর ব্রেন দুইটাই যদি সুস্থ থাকে এবং ব্রেন যদি ফাস্ট কাজ করে এর চাইতে ভাল আর কি হতে পারে তাই শরীরের প্রতি যত্ন নিবেন সম্পূর্ণ পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

নটিফিকেশন ও নোটিশ এরিয়া